আজ বৃহস্পতিবার | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ |২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি | রাত ১০:৫৯

আশরাফুল হক রুবেল,কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের উলিপুরে গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ঘিরে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কয়েক প্রজন্মের সংস্কৃতি ও বিনোদনের প্রতীক এই ঘোড়দৌড় দেখতে বুধবার বিকেলে ২০ হাজারেরও বেশি দর্শকের ঢল নামে।
উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের মিয়াজী পাড়ায় প্রয়াত আবুল কাশেম (ঘোড়া) স্মৃতির স্মরণে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। মাঠজুড়ে ছিল মানুষের ভিড়, উল্লাস আর ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ আনন্দের আবহ।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অংশগ্রহণ :প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ঘোড়সওয়াররা অংশ নেন। নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার হালিমা খাতুনের ঘোড়া, গাইবান্ধা, রৌমারীসহ বিভিন্ন এলাকার শক্তিশালী ও প্রশিক্ষিত ঘোড়া দৌড়ে অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় ঘোড়ার গতি, সওয়ারদের দক্ষতা এবং কৌশল দর্শকদের মুগ্ধ করে।
প্রতিযোগিতা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাসভীর-উল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, জেলা বিএনপির সদস্য সাইয়েদ আহমেদ বাবু, উলিপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হায়দার আলী মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক ওবায়দুর রহমান বুলবুল, আব্দুর রশিদ মিলিটারি, চিলমারী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ফজলুল হকসহ আরও অনেকে।
বক্তারা যা বললেন
বক্তারা বলেন, ঘোড়দৌড় গ্রামবাংলার একটি ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, যা একসময় কৃষিভিত্তিক সমাজে বিনোদন ও সামাজিক বন্ধনের অন্যতম মাধ্যম ছিল। আধুনিকতার চাপে এ ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। এমন আয়োজন গ্রামীণ সংস্কৃতি রক্ষা ও নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ঘোড়দৌড়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
বাংলার গ্রামীণ সমাজে ঘোড়দৌড়ের ইতিহাস বহু পুরোনো। জমিদারি আমল থেকে শুরু করে গ্রামীণ মেলা, উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানে ঘোড়দৌড় ছিল অন্যতম আকর্ষণ। কৃষিকাজে ঘোড়ার ব্যবহার কমে গেলেও গ্রামবাংলার বিনোদন ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে এই দৌড় প্রতিযোগিতা মানুষের স্মৃতিতে এখনও জীবন্ত।
বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের চর ও নদীবেষ্টিত এলাকাগুলোতে ঘোড়দৌড় ছিল সাহস, শক্তি ও কৌশলের প্রতীক। স্থানীয় মানুষ নিজেরা অর্থ সংগ্রহ করে এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করতেন, যা গ্রামীণ ঐক্য ও আনন্দের প্রতিফলন ঘটাত।
নতুন প্রজন্মের আগ্রহ
দর্শকদের মধ্যে তরুণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই বলেন, মোবাইল ও প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদনের বাইরে এসে এমন ঐতিহ্যবাহী আয়োজন উপভোগ করা ভিন্ন এক অনুভূতি।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন হলে ঘোড়দৌড় আবারও গ্রামবাংলার সংস্কৃতিতে প্রাণ ফিরে পাবে।
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
| সুবহে সাদিক | ভোর ৬:২৩ পূর্বাহ্ণ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ |
| যোহর | দুপুর ১:০৮ অপরাহ্ণ |
| আছর | বিকাল ৪:১২ অপরাহ্ণ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৬:৩৩ অপরাহ্ণ |
| এশা | রাত ৭:৫২ অপরাহ্ণ |