আজ সোমবার | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ |১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি | বিকাল ৩:৪০

শিরোনাম :

ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশিদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে যুব সমাজই মূল চালিকা শক্তি:মতবিনিময় সভায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক আল্লাহ আমাদেরকে এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, এই দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করার তৌফিক আল্লাহ তায়ালা দেবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যুমনায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে : কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুমার নামাজের পর শিশু-কিশোরদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণমাধ্যমকে যত বেশি স্বাধীনতা দেওয়া হবে, তারা তত বেশি অনুসন্ধানী ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারবে :তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন রাজধানীর সুবিধা বঞ্চিত নারী ও শিশুদের নিয়ে ইফতার করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় শুক্রবার দুপুরে ভূমিকম্প অনুভূত নবনিযুক্ত ও বিদায়ী আইজিপির সম্মানে সংবর্ধনা

সংবাদ নাকি আতঙ্ক? মিডিয়ায় বিভৎস ছবির বাড়বাড়ন্ত

প্রকাশ: ৪ মার্চ, ২০২৫ ৮:১১ পূর্বাহ্ণ

হক মোঃ ইমদাদুল:- বাংলাদেশের মিডিয়া, বিশেষ করে সংবাদপত্র, টেলিভিশন এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে বিভৎস ছবি বা রক্তাক্ত ছবির সংখ্যা বাড়ছে, যা গভীর সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব ফেলছে। এসব ছবি মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য মিডিয়াগুলির একটি জনপ্রিয় উপায় হয়ে উঠেছে। কিন্তু, এর পেছনে আছে এমন কিছু কারণ যা শুধুমাত্র দৃষ্টির আনন্দ নয়, বরং মানুষের মানসিকতা ও সামাজিক সংহতি ক্ষতিগ্রস্ত করে।

বিভৎস ছবি ও রক্তাক্ত ছবির মূল কারণ:

১. বাণিজ্যিক উদ্বুদ্ধতা

মিডিয়া চ্যানেলগুলো সবসময় তাদের পুঁজির পরিমাণ বৃদ্ধি করার জন্য নতুন কৌশল অবলম্বন করে। আর এই উদ্দেশ্যে তারা এমন বিষয়বস্তু প্রকাশ করে যা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। রক্তাক্ত এবং বিভৎস ছবি মানুষের মনোযোগ দ্রুত আকর্ষণ করে, যেহেতু এই ধরনের ছবি বিশেষত বিভ্রান্তিকর এবং উত্তেজনাপূর্ণ হয়। এই ছবিগুলোর মাধ্যমে তারা বিজ্ঞাপন বা অন্যান্য প্রচারণা কার্যক্রমের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি করতে চায়। উদাহরণস্বরূপ, একটি ট্র্যাজিক ঘটনা বা দুর্ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করার মাধ্যমে টিআরপি (টেলিভিশন রেটিং পয়েন্ট) বাড়ানো হয় এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়।

এই ধরনের ছবি শুধু মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর মুনাফা বাড়ায় না, বরং এটি সমাজে পেশাদারিত্বের অভাব সৃষ্টি করতে পারে। একদিকে, এটি খবরের সঠিকতা বা সার্বিক মূল্যায়নকে উপেক্ষা করে, অন্যদিকে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

২. মানসিক প্রভাব এবং সেনসেশনালিজম

বর্তমান সমাজে সেলিব্রেটি সংস্কৃতি এবং “সেন্সেশনালিজম” প্রবণতা অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সেনসেশনালিজম বলতে এক ধরনের উত্তেজনা বা হইচই সৃষ্টি করা হয়, যাতে মানুষকে অবাক বা বিস্মিত করা যায়। মিডিয়াতে কোনো দুর্ঘটনা বা অপরাধের রক্তাক্ত ছবি প্রকাশ করার মাধ্যমে এই ধরনের উত্তেজনা তৈরি করা হয়। জনগণের মনোযোগ আকর্ষণ করতে, মিডিয়া এসব ঘটনার ছবি এমনভাবে উপস্থাপন করে যা একদিকে মানবিক সহানুভূতির সঙ্গে যুক্ত, অন্যদিকে তা দর্শকদের মানসিকতায় অবিশ্বাস্য বা মর্মান্তিক আঘাত সৃষ্টি করে।

এ ধরনের ছবি মানুষের মনে এক ধরনের অবসাদ বা শক তৈরি করতে পারে, যার ফলে তারা এসব ঘটনার দিকে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে, এটি সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে এবং অনেকে এর প্রতি এক ধরনের আবেগগত আসক্তিতে পরিণত হয়, যা শেষ পর্যন্ত এক ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা সৃষ্টি করে।

৩. তথ্য সংক্রমণ এবং অপরাধের চাহিদা

মিডিয়াতে ট্র্যাজিক বা ভীতিকর ঘটনা প্রচারিত হলে তা মানুষের মধ্যে সারা দিবস আলোচনা এবং শেয়ার করার প্রবণতা সৃষ্টি করে। ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই ধরনের ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা মানুষকে আরও বেশি শেয়ার করতে উদ্বুদ্ধ করে। এই তথ্যের মাধ্যমে একটি ভীতি বা উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়, যা কখনও কখনও অপরাধের আশঙ্কা বা একধরনের সামাজিক অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে। যখন মিডিয়া ঘন ঘন এই ধরনের চিত্র প্রকাশ করে, তখন এটি জনগণের মধ্যে সচেতনতা বা চিন্তার পরিবর্তনের বদলে উদ্বেগ এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

এর ফলে অপরাধ সম্পর্কিত চাহিদা বাড়ে, যেমন- মানুষ অপরাধ বা ট্র্যাজেডি সম্পর্কিত আরও তথ্য জানতে চায় বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করতে চায়। এটি সমাজে একধরনের অপরাধমূলক মনোভাব বা আগ্রহ তৈরি করতে পারে, যেটি দীর্ঘমেয়াদে বিপজ্জনক হতে পারে। মিডিয়া এই ছবিগুলি প্রকাশ করে একদিকে উপার্জন করতে চায়, তবে অপরদিকে তা সমাজে অস্থিরতা এবং অপরাধ প্রবণতা সৃষ্টি করতে পারে।

৪. অনুভূতিগত অবক্ষয়

বিভিন্ন সময়ে, মিডিয়া এমন ছবির মাধ্যমে সামাজিক অনুভূতিগুলিকে অবহেলা করে, যা মানুষের অভ্যন্তরীণ মানবিক অনুভূতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। রক্তাক্ত বা বিভৎস ছবির দর্শন মানুষের সহানুভূতির অনুভূতি কমিয়ে দেয় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা এমন দৃশ্যগুলির প্রতি আরো অপ্রস্তুত হয়ে যায়। এর ফলে সহানুভূতি, সহমর্মিতা, এবং অন্যের প্রতি সহানুভূতি কমে গিয়ে মনস্তাত্ত্বিকভাবে ক্ষতি হতে পারে।

এভাবে বিভৎস ছবি এবং রক্তাক্ত চিত্রের প্রকাশনা দীর্ঘকাল ধরে মিডিয়া এবং সমাজের মধ্যে একটি নেতিবাচক চক্র তৈরি করতে পারে, যা সমাজের মানসিক অবস্থান এবং সমষ্টিগত স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারে।

মানব সমাজের উপর ক্ষতিকর প্রভাব:

বিভৎস ছবি এবং রক্তাক্ত ছবি সমাজে গভীর, নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই ধরনের ছবি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে, কিন্তু এর সাইকোলজিকাল, সামাজিক, এবং সাংস্কৃতিক প্রভাবগুলি ব্যাপক এবং দুর্ভাগ্যজনক হতে পারে।

১. মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব

বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, রক্তাক্ত বা বিভৎস ছবি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত, শিশু এবং তরুণরা যখন এই ধরনের ছবি দেখে, তাদের মানসিক অবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই ধরনের দৃশ্য সাধারণত ভয়, উদ্বেগ, অবসাদ বা বিষণ্নতা সৃষ্টি করে এবং এটি মানসিক দুর্বলতার সৃষ্টি করতে পারে।

অপরাধী মনোভাব বা হিংস্রতা বেড়ে যেতে পারে, কারণ এই ছবিগুলি মানুষের মধ্যে সহানুভূতি বা সহমর্মিতার অনুভূতিকে কমিয়ে দেয়। শিশুদের ক্ষেত্রে, তাদের মস্তিষ্ক এখনো বিকাশমান, তাই তারা এই ধরনের দৃশ্য দেখে আরও বেশি প্রভাবিত হতে পারে। ফলে তারা সহানুভূতি হারাতে পারে এবং অস্থির বা সহিংস মনোভাব ধারণ করতে পারে।

এছাড়া, নির্দিষ্ট ধরনের ছবি যেমন, হত্যাকাণ্ড বা দুর্ঘটনা দেখতে দেখতে মানুষ রূঢ় হয়ে উঠতে পারে এবং তারা এসব ঘটনায় অন্যদের কষ্টকে অনুধাবন করতে পারে না, যার ফলে সমাজের মধ্যে সহানুভূতির অভাব দেখা দেয়।

২. সম্প্রতি প্রজন্মের প্রতি ক্ষতিকর প্রভাব

আজকের তরুণ প্রজন্মের প্রতি এই ধরনের ছবির প্রভাব অত্যন্ত গুরুতর। যেসব শিশুরা বা তরুণরা নিয়মিতভাবে রক্তাক্ত বা সহিংস ছবি দেখে, তারা এক ধরনের সহিংস মনোভাব গড়ে তুলতে পারে। গবেষণা প্রমাণ করে যে, সহিংস ভিডিও গেমস বা ছবির প্রতি আগ্রহী হওয়া শিশুদের মধ্যে বাস্তব জীবনে সহিংস আচরণ প্রদর্শন করার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

এটি পরবর্তীতে তাদের আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই তরুণরা সমাজে সহিংসতা, আক্রমণ, বা সহিংস সমাধানের দিকে ঝুঁকতে পারে। এছাড়া, তাদের মধ্যে অ্যালকোহল বা মাদকের ব্যবহার, আত্মহত্যা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে প্রবণতা বাড়তে পারে।

এছাড়া, সমাজে মনোভাবগত বৈষম্য সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে, কারণ এই ধরনের ছবি শিশুরা তাদের মানসিক অবস্থা ও মূল্যবোধের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, যার ফলে তারা নানা ধরনের নেতিবাচক আচরণ বা সামাজিক অস্থিরতায় নিপতিত হতে পারে।

৩. সম্প্রদায়িক বা জাতিগত বিশৃঙ্খলা

বিভিন্ন রাজনৈতিক বা জাতিগত উত্তেজনা তৈরি করার জন্য রক্তাক্ত বা বিভৎস ছবি একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। কিছু ছবির মাধ্যমে বিশেষ জাতি, ধর্ম, বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়, যা সমাজে জাতিগত বা ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করতে পারে।

যেমন, যদি কোনো জাতিগত সহিংসতার ছবি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়, তাহলে সে সম্প্রদায়ের প্রতি মানুষের সহানুভূতি কমে যেতে পারে, অন্যদিকে বিদ্বেষ এবং দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এই ধরনের ছবি শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় না, বরং এটি মানুষকে ভুল ধারণা দিতে এবং সন্ত্রাসবাদ, জাতিগত সংঘর্ষ বা ধর্মীয় অশান্তি উসকে দিতে পারে।

এমনকি এই ধরনের ছবি আন্তর্জাতিক বা জাতিগত সম্পর্কের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যেখানে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে বিপদজনক বা অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে।

৪. সামাজিক অস্থিরতা

এ ধরনের ছবি সমাজের মধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। যখন একটি ঘটনা বা ট্র্যাজেডি সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হয়, তখন তা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বা ভয় সৃষ্টি করতে পারে। জনগণ এমন পরিস্থিতিতে মনোযোগী হয়ে উঠে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় অসন্তোষ এবং আতঙ্কের সৃষ্টি করে।

এই ধরনের ছবি শুধুমাত্র আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে না, বরং এটি সমাজের বিশ্বাস এবং মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। একটি জাতির ঐক্য এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে এটি বড় একটি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

৫. গণমনোভাবের পরিবর্তন

বিভৎস ছবি এবং রক্তাক্ত চিত্রগুলি গণমনোভাব পরিবর্তনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব ছবি জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি, মনোভাব এবং অনুভূতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষত, এই ধরনের ছবি যখন জনসমক্ষে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেগুলি জনগণের মানসিকতায় স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

এছাড়া, এটি একটি প্রবণতা তৈরি করে, যেখানে জনসাধারণ আরও বেশি সহিংস বা নেতিবাচক বিষয়বস্তু দেখতে চাইতে পারে, যা গণমাধ্যমের দিকেও তাদের আগ্রহ বৃদ্ধি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে, এটি সম্পূর্ণভাবে সামাজিক মূল্যবোধ এবং সহানুভূতির প্রতি একধরনের অবহেলা সৃষ্টি করতে পারে।

৬. মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়

এ ধরনের ছবি দেখলে সমাজের মানবিক মূল্যবোধও অবক্ষয়ের সম্মুখীন হতে পারে। সহানুভূতি, নৈতিকতা, এবং মানবিকতা সমাজের ভিত্তি, কিন্তু রক্তাক্ত এবং বিভৎস ছবির মাধ্যমে এই মূল্যবোধ কমে যেতে পারে। মানুষ এমন ছবি দেখে কিছুটা রূঢ় হয়ে যায় এবং অন্যের কষ্টের প্রতি তাদের অনুভূতি হ্রাস পায়। এটি শুধু শিশু ও তরুণদেরই নয়, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও বড় ধরনের মূল্যবোধের অবক্ষয় সৃষ্টি করে।

এভাবে, বিভৎস ছবি এবং রক্তাক্ত চিত্রগুলো সমাজে মানবিকতা ও সহানুভূতির পতন ঘটাতে পারে, যা দীর্ঘকাল ধরে মানুষের জীবনযাত্রার মানকে প্রভাবিত করতে পারে।

যৌক্তিক পদক্ষেপ:

বিভৎস বা রক্তাক্ত ছবি প্রকাশের সমস্যা মোকাবিলায় কিছু যৌক্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি, যা সমাজে সুষ্ঠু এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করবে। এই পদক্ষেপগুলি নিশ্চিত করবে যে মিডিয়া গুলো আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করবে এবং সমাজে নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনবে।

১. এডিটোরিয়াল গাইডলাইন তৈরি

মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলির উচিত একটি সুনির্দিষ্ট এবং কার্যকর এডিটোরিয়াল গাইডলাইন তৈরি করা, যা হিংসাত্মক বা বিভৎস ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করবে। এই গাইডলাইনগুলিতে মূলত তিনটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:

  • শব্দের এবং ছবি নির্বাচনে সতর্কতা: ছবির পাশাপাশি লেখাও যেন অত্যন্ত সংযত হয়, যাতে তা মানুষের অনুভূতি আহত না করে।
  • মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি: সহিংসতার বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে মানুষের কষ্ট ও শোকের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করা।
  • ভিত্তিহীন অতিরঞ্জন পরিহার করা: কিছু ছবি ও ভিডিও অতিরঞ্জিত বা সম্পাদিত হতে পারে, যা আরও উত্তেজনা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তাই সঠিক এবং তথ্যনিষ্ঠ ছবি ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ ধরনের গাইডলাইন তৈরি হলে, মিডিয়াগুলো নিজেদের সংবাদ পরিবেশনার প্রক্রিয়া আরও সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারবে এবং এটি জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করবে, যে কোন ঘটনা বা ছবি প্রকাশ করার ক্ষেত্রে মানবিক দিকের প্রতি দায়িত্বশীল থাকতে হবে।

২. পাঠ্যবই এবং মিডিয়া শিক্ষা

বর্তমান প্রজন্মকে মিডিয়া বিষয়ে সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। মিডিয়া সোর্সের সঠিক ব্যবহার শেখানো এবং সঠিক তথ্য গ্রহণের গুরুত্ব বুঝানো ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তরুণদের শেখানো উচিত:

  • মিডিয়া লিটারেসি: কীভাবে মিডিয়া কনটেন্টগুলি তৈরি হয় এবং কীভাবে তা সমাজকে প্রভাবিত করে।
  • ভ্রান্ত তথ্য চিনে ওঠার সক্ষমতা: সোশ্যাল মিডিয়া এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ছড়ানো মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করার দক্ষতা।
  • অনলাইন নিরাপত্তা: তারা যেন নিরাপদভাবে মিডিয়া ব্যবহার করতে পারে এবং যেকোনো অপ্রাসঙ্গিক বা অশ্লীল কনটেন্ট থেকে বিরত থাকে।

এই ধরনের শিক্ষা সমাজের তরুণদের আরও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। একইভাবে, এটা তাদের শিখাবে কিভাবে বিশ্বস্ত এবং সঠিক মিডিয়া সোর্স থেকে তথ্য গ্রহণ করতে হবে, যা সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব থেকে তাদের রক্ষা করবে।

৩. মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা

বিভিন্ন শোকাবহ বা ট্র্যাজিক ঘটনা যখন মিডিয়াতে প্রচারিত হয়, তখন তা মানুষের মানসিক অবস্থা এবং তাদের অনুভূতির উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে অনেক মানুষ মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে। তাই, এই ধরনের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে, সহানুভূতির সাথে এবং যথাযথ মনস্তাত্ত্বিক সহায়তার মাধ্যমে এটি উপস্থাপন করা উচিত।

  • মনোবিজ্ঞানী বা পরামর্শদাতাদের সেবা: যাদের মানসিকভাবে আঘাত করা হয়েছে, তাদের জন্য বিশেষ মনোবিজ্ঞানী বা পরামর্শদাতাদের সেবা প্রদান করা উচিত।
  • বিশেষ মনোযোগ এবং সহানুভূতি: যখন কোনো ভয়াবহ বা শোকাবহ ঘটনা প্রকাশিত হয়, তখন মিডিয়ার দায়িত্ব হচ্ছে সঠিকভাবে মানবিক সহানুভূতি সহকারে বিষয়টি প্রচার করা, যাতে অযথা উত্তেজনা বা বিচলন সৃষ্টি না হয়।
  • মেডিটেশন এবং মানসিক সুস্থতা সম্পর্কিত ক্যাম্পেইন: মানসিক সুস্থতার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন ক্যাম্পেইন চালানো যেতে পারে।

৪. বহির্বিশ্বের উদাহরণ

বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যে এই ধরনের ছবি এবং সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি রয়েছে, যা আমাদের জন্যও একটি প্রেরণা হতে পারে। যেমন:

  • সুইডেন: সুইডেনে “হিংসাত্মক ছবি” প্রকাশের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধিনিষেধ রয়েছে। সেখানে সংবাদ মাধ্যমের জন্য নির্দিষ্ট আইন রয়েছে, যা হিংসাত্মক ছবি বা ভিডিও প্রকাশের আগে তাদের যথাযথ যাচাই-বাছাই করতে হয়।
  • নরওয়ে: নরওয়েতে সোসাইটি রিস্ক এবং নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ও নিউজ প্ল্যাটফর্মে এক ধরনের সোশ্যাল লিডারশিপ প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, যেখানে সাংবাদিকরা দায়িত্বশীলতার সাথে ছবি এবং সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
  • কানাডা: কানাডার মতো দেশে মিডিয়াতে সহিংস ছবি প্রকাশের জন্য একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে, যেখানে ছবি বা ভিডিও প্রকাশের আগে সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ এবং পর্যালোচনা করা হয়, যাতে তা জনস্বার্থের জন্য উপকারী হয়।

এছাড়া, এসব দেশগুলোতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ সেশনও পরিচালিত হয়, যেখানে মিডিয়া কর্মীরা প্রতিদিনের কনটেন্ট প্রকাশের আগে মানবিক দিক এবং সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে অবগত হন।

উপদেশ:

বিভৎস এবং রক্তাক্ত ছবি প্রকাশের সমস্যাটি একটি জটিল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়, যা শুধুমাত্র সরকারের একক প্রচেষ্টায় সমাধান সম্ভব নয়। এটি একটি বহুমুখী সমস্যা যা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা দাবি করে। মিডিয়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, এবং সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ এই সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

১. সরকারের ভূমিকা:

সরকারের উচিত একটি নীতি ও আইন প্রণয়ন করা যা মিডিয়ার উপর প্রভাব বিস্তার করে, যাতে তারা সঠিক দৃষ্টিকোণ থেকে কনটেন্ট তৈরি এবং প্রচার করে।

  • নিরাপত্তা এবং গাইডলাইন তৈরি: মিডিয়ার জন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা তৈরি করতে হবে, যাতে তারা সহিংস বা বিভৎস ছবি প্রকাশ করার আগে এর সামাজিক, মানসিক এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব সম্পর্কে চিন্তা করে।
  • শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম: সাংবাদিকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ আয়োজন করতে হবে, যেখানে তাদের মিডিয়া কনটেন্টের সামাজিক দায়িত্ব ও নৈতিকতা শেখানো হবে।
  • আইনি কাঠামো: প্রয়োজন হলে মিডিয়াতে সহিংস বা অশ্লীল ছবি প্রকাশের জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে, যাতে সেই ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে নৈতিক সীমাবদ্ধতা প্রবর্তিত হয়।

২. মিডিয়া সংস্থার দায়িত্ব:

মিডিয়া সংস্থাগুলি এই প্রেক্ষাপটে বিশাল দায়িত্ব পালন করে। তারা যে ধরনের ছবি বা ভিডিও প্রচার করে, তা সমাজে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

  • মানবিক দৃষ্টিকোণ: মিডিয়া সংস্থাগুলি সমাজের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা মেনে চলতে হবে। সহিংস বা বিভৎস ছবি প্রচার করার আগে এর সম্ভাব্য মানসিক ও সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে চিন্তা করতে হবে।
  • বিকল্প উপস্থাপন: ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায়, মিডিয়া সংস্থাগুলি উচিত এমন বিকল্প উপস্থাপন করা, যা জনগণকে সহানুভূতি, শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধের দিকে উদ্বুদ্ধ করবে।
  • এথিক্যাল জার্নালিজম: মিডিয়া গুলিকে অবশ্যই নৈতিক সাংবাদিকতা অনুসরণ করতে হবে, যেখানে তারা সব ধরনের তথ্য সঠিক, প্রাসঙ্গিক এবং প্রভাবশালী উপায়ে উপস্থাপন করবে।

 

৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের ভূমিকা:

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সকল অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরও এই সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

  • মিডিয়া শিক্ষা: শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিডিয়া লিটারেসি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার নিরাপদ ব্যবহার শেখানো জরুরি। তারা যেন বুঝতে পারে কীভাবে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট শনাক্ত করতে হবে এবং তার প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে।
  • সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা: শিক্ষকরা, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণকে সঠিকভাবে সচেতন করতে সামাজিক কর্মসূচি এবং ক্যাম্পেইন চালানো যেতে পারে। এই ক্যাম্পেইনগুলির মাধ্যমে মানুষকে বুঝানো যাবে যে, সোশ্যাল মিডিয়া এবং প্রচার মাধ্যমগুলি সমাজে কীভাবে প্রভাব ফেলে এবং এর ফলাফল কী হতে পারে।

৪. প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার:

বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

  • সোশ্যাল মিডিয়া এবং টেকনোলজির যথাযথ ব্যবহার: আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সুতরাং, প্রযুক্তির মাধ্যমে ইতিবাচক প্রচারণা চালানো এবং নৈতিক ছবি এবং তথ্য প্রচার করা উচিত।
  • এআই এবং মেশিন লার্নিং: ছবি বা ভিডিওগুলির মাধ্যমে তৈরি হওয়া উত্তেজনা বা বিভ্রান্তি পর্যবেক্ষণ করার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার করা যেতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে।

৫. সামাজিক দায়িত্বশীলতা এবং একযোগী প্রচেষ্টা:

এই সমস্যা মোকাবিলায় শুধুমাত্র রাষ্ট্র বা মিডিয়া সংস্থাগুলি নয়, সাধারণ জনগণও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।

  • নেতিবাচক ছবি শনাক্ত করা এবং রিপোর্ট করা: জনগণ, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা, যদি কোনো বিভৎস ছবি বা ভিডিও দেখে, তারা তা রিপোর্ট করতে পারে।
  • সমাজে বিতর্ক সৃষ্টি করা: মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য এ ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে সবার মধ্যে আলোচনা করা উচিত। পরিবার, বন্ধু, এবং সহকর্মীদের সঙ্গে এসব বিষয়ের উপর আলোচনা করতে পারলে অনেকেই বুঝতে পারবেন এই ধরনের ছবি ও ভিডিও সমাজে কতটা ক্ষতিকর হতে পারে।

৬. বহির্বিশ্বের অভিজ্ঞতা এবং উদাহরণ:

বিশ্বের নানা দেশে এই ধরনের ছবি ও কনটেন্টের জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, যা আমাদের দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপীয় দেশগুলো এবং আমেরিকায় মিডিয়া সংস্থাগুলির জন্য কড়া আইন এবং গাইডলাইন রয়েছে, যা তাদের নৈতিক দায়িত্ববোধের প্রতি গুরুত্ব দেয় এবং সঠিক কনটেন্ট প্রকাশে উৎসাহিত করে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের ছবি বা কনটেন্টের কারণে ক্ষতি সৃষ্টির পর সেগুলির পর্যালোচনা করা এবং রিভিউ করার জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজ করছে। এতে এই ধরনের কনটেন্ট প্রকাশের আগে তা যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।

 বৈজ্ঞানিক এবং চিকিৎসা দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ

বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং চিকিৎসাগত বিশ্লেষণে প্রমাণিত হয়েছে যে, হিংসাত্মক বা বিভৎস ছবি দেখার ফলে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষত, শিশু এবং তরুণদের উপর এর প্রভাব অনেক বেশি, কারণ তাদের মস্তিষ্ক এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে বিকশিত হয়নি এবং তারা পৃথিবীকে বিভিন্নভাবে অনুভব করে এবং বিচার করে। এই ধরনের ছবি মস্তিষ্কের একাধিক অংশের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে, যা তাদের মানসিক অবস্থা খারাপ করে দেয়।

১. মানসিক প্রভাব এবং মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া:

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, হিংসাত্মক বা বিভৎস ছবি মানুষের মস্তিষ্কের সেগমেন্টগুলোতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে, এই ধরনের ছবির সাথে সম্পর্কিত অনুভূতিগুলি মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা (যা মূলত অনুভূতি, বিশেষ করে ভয় এবং উদ্বেগকে প্রক্রিয়াজাত করে) এবং প্রিফ্রন্টাল করটেক্স (যা সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিকল্পনা এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য দায়ী) এর মধ্যে একটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যকলাপ সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে, মানুষ দীর্ঘসময় ধরে উদ্বেগ, দুঃখ বা ভীতি অনুভব করতে পারে।

২. শিশুদের উপর প্রভাব:

শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ এমনভাবে হয় যে, তারা প্রাপ্ত তথ্য ও অভিজ্ঞতার প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে। যখন তারা সহিংস বা বিভৎস ছবি দেখে, তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং এটি তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই ধরনের ছবি দেখলে শিশুদের মধ্যে আতঙ্কআক্রমণাত্মক আচরণ এবং অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। এই প্রভাবগুলো তাদের সৃজনশীলতা, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ এবং সামাজিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

৩. দীর্ঘমেয়াদী মানসিক রোগের ঝুঁকি:

হিংসাত্মক বা বিভৎস ছবি শিশু এবং তরুণদের মধ্যে মানসিক সমস্যার ঝুঁকি তৈরি করে, যা তাদের জীবনের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এর মধ্যে প্রধান প্রধান সমস্যাগুলো হলো:

  • অবসাদ (ডিপ্রেশন): হিংসাত্মক ছবি দেখে উদ্বেগ, দুঃখ এবং হতাশা তৈরি হতে পারে, যা পরবর্তীতে ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
  • অ্যাটাকস (প্যানিক অ্যাটাক): এসব ছবি মস্তিষ্কের সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করে।
  • লেখক, সংগ্রাহক ও গবেষকঃ হক মোঃ ইমদাদুল, জাপান

    coinbangla@gmail.com

Please follow and like us:
error5
fb-share-icon
Tweet 120

প্রবাসের সংবাদ

আরও পড়ুন

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

  • আর্কাইভ

    ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশিদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে যুব সমাজই মূল চালিকা শক্তি:মতবিনিময় সভায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক

    টাঙ্গাইল-৮(বাসাইল- সখিপুর) আসনের জনগণ হতাশ

    কমলাপুর স্টেডিয়ামে অব্যবস্থাপনায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভ, দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ

    শহীদ আব্দুল্লাহ’র ক্যান্সার আক্রান্ত ভাই জিসানের চিকিৎসায় আবারো সহায়তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    আল্লাহ আমাদেরকে এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, এই দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করার তৌফিক আল্লাহ তায়ালা দেবেন

    ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যুমনায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি প্রতিনিধি দল

    কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী এমন বাস্তবতা নিয়ে উত্তরায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সমন্বয় সভা এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এমপির

    উত্তরায় দুটি কিডনিই নষ্ট-অসুস্থ নুসরাতের চিকিৎসায় পাশে দাড়ালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    বাংলাদেশের মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে : কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    সেলিমা রহমানের চিকিৎসার খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডাঃ আনম মনোয়ারুল কাদির বিটু

    অনুষ্ঠিত হলো রাবিয়ান উত্তর এর দোয়া ও ইফতার মাহফিল। 

    তারেক রহমানের ‘মদিনার সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতিফলন দেখাচ্ছেন: শ্রীনগরে ইফতার মাহফিলে মীর সরফত আলী সপু

    জুমার নামাজের পর শিশু-কিশোরদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    গণমাধ্যমকে যত বেশি স্বাধীনতা দেওয়া হবে, তারা তত বেশি অনুসন্ধানী ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারবে :তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

    রাজধানীর সুবিধা বঞ্চিত নারী ও শিশুদের নিয়ে ইফতার করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান

    নড়াইলে খুনের ঘটনায় ৬৯ জনকে আসামি করে মামলা গ্রেফতার ১০

    শীতে আসে গরম পড়লেই চলে যায় – পাখির কলকাকলিতে মুখর রাণীশংকৈলে রামরায় দিঘী

    রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় শুক্রবার দুপুরে ভূমিকম্প অনুভূত

    নবনিযুক্ত ও বিদায়ী আইজিপির সম্মানে সংবর্ধনা

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন

    গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলে সংশোধন এনে গেজেট প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠক:১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

    আশাহত হবেন না প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমি কাজ শুরু করে দিয়েছি : ইফতার অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীর হোসেন এমপি

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি

    নওগাঁর পত্নীতলায় কারিতাসের আর্থিক সহায়তা ও সহায়ক ডিভাইস প্রদান

    নড়াইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের জন্মবার্ষিকী পালিত

    পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার করা হবে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ২২ জনকে গ্রেফতার করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ

    বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


    • সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
      ওয়াক্তসময়
      সুবহে সাদিকভোর ৬:০৫ পূর্বাহ্ণ
      সূর্যোদয়ভোর ৭:২০ পূর্বাহ্ণ
      যোহরদুপুর ১:১১ অপরাহ্ণ
      আছরবিকাল ৪:৩২ অপরাহ্ণ
      মাগরিবসন্ধ্যা ৭:০২ অপরাহ্ণ
      এশা রাত ৮:১৭ অপরাহ্ণ
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুল হাসান বাবলু
    ই-মেইলঃ dk.kamrul@gmail.com
    copyright @ নিউজ এখন ( www.newsekhon.com )
    নিউজ এখন মাল্টি মিডিয়া (প্রা:) লিমিটেড প্রতিষ্ঠান।