আজ শনিবার | ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ |১৮ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি | সকাল ৮:০০

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধে প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই ওয়াশিংটনের ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ৩.৭ বিলিয়ন ডলার (৩৭০ কোটি ডলার)। এই হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৯০০ (৯০ কোটি) মিলিয়ন ডলার। বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণেই এই ব্যয় হয়েছে বলে নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর বিশ্লেষণে যুদ্ধের বিপুল ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। শুক্রবার যুদ্ধ সপ্তম দিনে প্রবেশ করেছে। স্টেলথ বোমারু বিমান ও উন্নত অস্ত্রব্যবস্থা ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
গবেষক মার্ক ক্যানসিয়ান এবং ক্রিস পার্ক বলেন, যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় আনুমানিক ৩.৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের মধ্যে অল্প অংশই আগে থেকেই বাজেটে অন্তর্ভুক্ত ছিল। অধিকাংশ ব্যয়, প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার, আগে থেকে বাজেটে ধরা ছিল না।
তাদের মতে, এর অর্থ হলো পেন্টাগনকে এই অনির্ধারিত ব্যয় মেটাতে শিগগিরই অতিরিক্ত অর্থের জন্য আবেদন করতে হতে পারে। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে এবং যুদ্ধবিরোধীদের জন্য একটি বড় ইস্যুতে পরিণত হতে পারে।
দেশের অভ্যন্তরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং সংঘাতের কারণে তেলের দাম বাড়ার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে যুদ্ধের প্রতি সমর্থন আরও কমিয়ে দিতে পারে।
এটি ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ সমর্থকদের মধ্যেও বিভাজন তৈরি করছে, কারণ তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্রকে ‘যুদ্ধে’ জড়ানো থেকে বিরত রাখার প্রতিশ্রুতি করেছিলেন।
গবেষকেরা উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর তাদের সামরিক অভিযানের বিষয়ে খুব সীমিত তথ্য প্রকাশ করেছে। তাই তাদের বিশ্লেষণ কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও)-এর বিভিন্ন ইউনিটের অপারেশন ও সহায়তা ব্যয়ের হিসাবের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। এতে মূল্যস্ফীতির সমন্বয়, ইউনিটের আকার এবং ‘উচ্চমাত্রার অপারেশনাল কার্যক্রম’-এর জন্য অতিরিক্ত ১০ শতাংশ ব্যয় যুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন ধরনের ২ হাজারের বেশি গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে। একই ধরনের অস্ত্র দিয়ে সেই মজুদ পুনরায় পূরণ করতে প্রায় ৩.১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। এতে প্রতিদিনের গড় ব্যয় প্রায় ৭৫৮.১ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।
‘বড় আকারের’ অপরিকল্পিত ব্যয় : যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণ খুব দ্রুত আরও বাড়তে যাচ্ছে। এতে আরও বেশি ফাইটার স্কোয়াড্রন, আরও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা এবং আরও ঘন ঘন বোমারু বিমান হামলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রতিবেদনটির লেখকেরা বলেন, সাধারণত কোনো সংঘাতের শুরুতে বিমান হামলা অত্যন্ত তীব্র থাকে এবং পরে তা কিছুটা কমে আসে। তবে এই ক্ষেত্রেও অনির্ধারিত ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য থাকবে।
তারা বলেন, এটি সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সামরিক অভিযানের মতো নয়, যেমন ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত অভিযানে বেশিরভাগ ব্যয় আগে থেকেই বাজেটে ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংঘাতের ব্যয় অভ্যন্তরীণ বাজেট কাটছাঁট করে মেটানো রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে কঠিন হতে পারে। ফলে প্রতিরক্ষা দপ্তরকে কোনো এক সময় অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে।রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ এবং সরকারের অন্যান্য অপ্রত্যাশিত ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত বাজেট অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে পারে। ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের শুরুতে জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে এবং যুদ্ধবিরোধীদের জন্য একটি প্রধান ইস্যুতে পরিণত হতে পারে।
যুদ্ধের ব্যয় কংগ্রেসকে ‘বিস্মিত’ করতে পারে-ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক রোজালিন্ড জর্ডান জানিয়েছেন, যুদ্ধের এই উচ্চ ব্যয় সম্ভবত কংগ্রেসের সদস্য ও সাধারণ জনগণের জন্যও বিস্ময়কর।
তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহে ব্যবহৃত টমাহক ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র এবং থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় সংগ্রহের জন্য পেন্টাগন প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত বাজেট প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে। এসব সরঞ্জামের কিছু ইতিমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে, কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা ব্যবহারের ফলে নষ্ট হয়ে গেছে।তিনি বলেন, সামরিক ব্যয়ের হার খুবই দ্রুতগতিতে বাড়ছে।
এরই মধ্যে বাজেট ঘাটতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের সুদের বোঝা নিয়ে কংগ্রেস উদ্বিগ্ন। এর মধ্যে আরও ৫০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত বাজেট প্রস্তাব অনেক আইনপ্রণেতাকে চিন্তায় ফেলতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মানবিক ক্ষয়ক্ষতি: এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে বড় ধরনের মানবিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বোমা হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে এখন পর্যন্ত ১৩৩২ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ইউনিসেফ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৮১ জন শিশু রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সপ্তাহে ইসরাইলি হামলায় লেবাননে অন্তত ১২৩ জন নিহত হয়েছেন। বৃহত্তর এই যুদ্ধের অংশ হিসেবে দেশটিতে নতুন করে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে এবং এটি চলমান সংঘাতের সবচেয়ে তীব্র ফ্রন্টগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
|---|---|
| সুবহে সাদিক | ভোর ৬:০০ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৭:১৫ |
| যোহর | দুপুর ১:০৯ |
| আছর | বিকাল ৪:৩২ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৭:০৪ |
| এশা | রাত ৮:১৯ |