
রাণীশংকৈল ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন সরকারি ভবন। প্রতি মাসে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন শিক্ষকরা। অথচ খাতা-কলমে স্কুল চললেও বাস্তবে সেখানে নেই কোনো নিয়মানুবর্তিতা। নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার গোগর-বাসনাহার গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষার এমন এক চরম বিপর্যয় ও হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম বলতে গেলে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে তৃতীয় শ্রেণীতে মাত্র ৩ জন, চতুর্থ শ্রেণীতে ২ জন এবং পঞ্চম শ্রেণীতে মাত্র ১ জন— সব মিলিয়ে এই তিন শ্রেণীতে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৬ জন।
স্থানীয়দের অভিযোগ,এই প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়তই এমন হাহাকার অবস্থা বিরাজ করে। শিক্ষকরা যেমন ঠিকমতো আসেন না, তেমনি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও শূন্যের কোঠায়। আরও অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রতিদিন দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যেই স্কুল ফাঁকি দিয়ে প্রতিনিয়ত বাড়ি চলে যান। ফলে দুপুরের পর বিদ্যালয়টি একপ্রকার অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে।এই বিদ্যালয়ের অব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার করুণ দশা নিয়ে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর (২০২৫ খ্রি.) সচিত্র ভিডিও এবং সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও উপজেলা শিক্ষা অফিস কিংবা সহকারী শিক্ষা অফিস এই বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। উল্টো প্রশাসনের এমন চরম উদাসীনতায় বিদ্যালয়ের অবস্থা আগের চেয়ে আরও বেশি শোচনীয় ও নাজুক হয়ে পড়েছে।
কোটি টাকার সরকারি সম্পদ এবং জনগণের ট্যাক্সের টাকায় শিক্ষকদের বেতন দেওয়া সত্ত্বেও কেন একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই মরণদশা-তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের তদারকি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ শিক্ষা কর্মকর্তাদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও দায়সারা বক্তব্যের পর এখন সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন দেশের প্রাথমিক শিক্ষার এই চরম অন্ধকারের দায়ভার আসলে কে নেবে?
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ইকবাল হোসেনের সাথে মুঠো ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করার হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার রবিউল ইসলাম নিজের দায় এড়ানোর চেষ্টা করে জানান,আমি শিক্ষকদেরকে বলে দিয়েছি, প্রয়োজনে তারা যেন বাড়ি বাড়ি যান, অভিভাবক সমাবেশ ও লোক সমাবেশ করে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বাড়ান। তারপরও তারা যদি কথা না শোনেন, তাহলে আমার কী করার আছে?এই বলে তিনি কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব না দিয়ে দায় এড়িয়ে বলেন,ওই স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষা অফিসার রবিউলের সঙ্গেই কথা বলুন।
রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
|---|---|
| সুবহে সাদিক | ভোর ৪:৪৯ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৬:১৬ |
| যোহর | দুপুর ১:০৩ |
| আছর | বিকাল ৪:২২ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৭:৪৯ |
| এশা | রাত ৯:১৭ |