
নজরুল ইসলাম মানিক, সাভার ও আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি প্রতিনিধি: ১৯৮৬ সালে শিক্ষাবিদ ডক্টর অধ্যাপক সৈয়দ আলী আশরাফ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গঠন করেন আশরাফ চ্যারিট্যাবল ট্রাস্ট যা পরবতীতে দারুল ইহসান ট্রাস্ট হিসিবে গঠিত হয়। এই ট্রাস্ট্রের অধিনে প্রতিষ্ঠা হয় দারুল ইহসান ইউনির্ভাসিটি। তার মৃত্যুর পর কয়েক বছর সব ঠিক থাকলেও বিপত্তি বাঁধে ২০০৬ সালে। এসময় সৈয়দ আলী আশরাফের ছোট ভাই সৈয়দ আলী নকি ট্রাস্টি বোর্ডের বেশ কয়েকজন সদস্যকে বাদ দিয়ে ট্রাস্ট্রে নিবন্ধন করেন। এতে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে তা গড়ায় আদালত পর্যন্ত। এক পর্যায়ে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্ধ হয়ে যায় দারুল ইহসান ইউনির্ভাসিটির কার্যক্রম। কিন্তু চলমান থাকে আবাসিক মাদ্রাসা।
এসময় সৈয়দ আলী আশরাফ এর শ্যালিকার ছেলে মারুফ হাসান মুকুল তৎকালীন আওয়ামীলীগের মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানককে সাথে নিয়ে দখল করেন প্রতিষ্ঠানটি। আওয়ামী শাসনামলে চলে তার এক চেটিয়া দখল বানিজ্য। অন্যদিকে স্থানীয় আওয়ামীলী শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক লায়ন ইমাম হোসেন দখলে রাখেন মাদ্রাসার মার্কেট।
৫ আগষ্টের পর সেই দখল টিকিয়ে রাখতে পারেনি মুকুল। কিন্তু মার্কেটের দখল ধরে রাখে ইমামের ভাই হাসান। এরপর বিভিন্ন গ্রুপের দখল পাল্টা দখল চলতে থাকে এখানে। যতবার এক পক্ষ অপর পক্ষকে দখল হতে বেদখল করেছে ততবারই ঘটেছে হামলা ভাংচুরের ঘটনা। হয়েছে থানায় মামলা। অবস্থা এমন যে হামলাকারিদের বিরুদ্ধে ভয়ে মুখ খুলতেও ভয়পান এখানকার কর্মকর্তা কর্মচারিরা। আতংকিত হয়ে পরে শিক্ষার্থী সহ আশপাশের বাসিন্দারা।
এ অবস্থায় সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় এগিয়ে আসেন সৈয়দ আলী আশরাফ এর ভাতিজা সৈয়দ আলী রায়হান ও তার চাচাতো ভাই সৈয়দ আরী সানজিদ। খবর পেয়ে তাদের উপরও হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ হামলার ঘটনায় ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল গফুরকে প্রধান আসামী করে মামলা দায়ের করেন সৈয়দ সানজিদ। তবে ঘটনার সাথে কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে সাফ জানিয়ে দেন আব্দুল গফুর। তবে দফায় দফায় হামলা চালানোর অভিযোগে মামলা হয়েছে স্থানীয় জাকির হোসেন মুন্সির নামে। এব্যাপারে তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কোন সদ উত্তর দেন নি।
তার কিছু দিন পরেই মাদ্রাসার একটি মার্কেটের দখল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সানজিদ ও রায়হানের নামে মামলা করেন আশুলিয়া থানা শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক লায়ন ইমাম এর ভাই হাসান। তিনি সাংবাদিকদের জানান তার ভাই লায়ন ইমামের সাথে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের চুক্তি আছে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত। লায়ন ইমাম আওয়ামীলীগ করার কারনে বর্তমানে আত্বগোপনে থাকায় মার্কেট দেখভাল করতে পারেন না বিধায় তার পক্ষে মার্কেটটির দখলে আছেন হাসান। মেয়াদ শেষ না হলে মার্কেটের দখল ছাড়তে নারাজ তিনি। তার দুদিন পরেই বর্বরোচিত হামলা হয় মাদ্রাসায় ব্যাপক ভাংচুর লুটপাট চলে সেখানে। এঘটনায় আবারো মামলা হয় আশুলিয়া থানায়।
এভাবে একের পর এক হামলা মামলায় জর্জরিত হয়ে মার্কেট রক্ষায় রায়হান ও সানজিদ আদালতের সরনাপন্ন হলে ওই মাদ্র্রাসা এবং মার্কেটের উপর আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
এর ঠিক কদিন পরেই গত ০৬-১০-২৬ ইং তারিখে পুলিশ বাদী হয়ে আবারো মামলা করে সানজিদ সহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এবারের মামলার অভিযোগ রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর জাল করে মাদ্রাসার কমিটি পরিচালনা করার অপরাধ। সেই মামলায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে জেলে আছে সানজিদ। এব্যাপারে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি মার্কেট নিয়ে বিরোধ এবং মাদ্রাসায় হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এছাড়াও উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগেও একটি মামলা করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্তে¡ও তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদ্রাসার নামে ফের ৫ সদস্যের এডহক কমিটির অনুমোদন দিয়েছে আরবি বিশ্¦বিদ্যালয়। যার সভাপতি হলেন ফজলুর করিম। আরবি বিশ্¦বিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার অধ্যাপক ড. এ.কে. মুহা. নুরুল ইসলাম জানান,তারা কাগজপত্র দেখে কমিটি দিয়েছেন । মাদ্রাসা কারা চালায় কি চালায় না তা দেখার সময় তাদের নেই।
শিক্ষাবিদ ডক্টর অধ্যাপক সৈয়দ আলী আশরাফ এর ট্রাষ্ট রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সৈয়দ আলী রায়হান ও তার পরিবার। ##
সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
|---|---|
| সুবহে সাদিক | ভোর ৫:৪২ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৬:৫৭ |
| যোহর | দুপুর ১২:৪৩ |
| আছর | বিকাল ৪:০২ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৬:২৯ |
| এশা | রাত ৭:৪৫ |