
সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের বিলাসবহুল বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার সকাল থেকে দুদকের একটি বিশেষ টিম বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল, আসবাবপত্র ও সম্পদের তথ্য সংগ্রহ এবং জব্দ তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করে। অভিযানে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ, সংরক্ষিত নথি ও মূল্যবান সামগ্রীর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
দুদকের মুখপাত্র তানজীর আহমেদ অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করে জানান, দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আদালতের নির্দেশনা ও চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে সম্পদের প্রকৃত অবস্থা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণ করা। অভিযানের সময় বাড়িতে থাকা বিভিন্ন মালামাল ও সম্পদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের তদন্ত চলছে। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তারা বাড়িতে থাকা মূল্যবান আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম, দলিলপত্র ও অন্যান্য সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করছেন।
এর আগে চলতি বছরের ৭ই জানুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত। এরও আগে ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট গভীর রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গণ-অভ্যুত্থানের সময় নিউমার্কেট থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জিয়াউল আহসান ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের নামে ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা রাখার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, তার নামে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা ও উত্তোলন করা হয়েছে। পরে ওই অর্থ তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর এবং রূপান্তর করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তার নামে থাকা আটটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুদক।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিজের পদ ও অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার এবং আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এসব কর্মকাণ্ড দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দণ্ডবিধি, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিয়াউল আহসান সর্বশেষ জাতীয় টেলিযোগাযোগ নজরদারি সংস্থা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। শেখ হাসিনা সরকারের প্রায় দেড় দশকের শাসনামলে তিনি অন্যতম প্রভাবশালী নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা, গুম, নির্যাতন, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত শুরু হয়।
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
|---|---|
| সুবহে সাদিক | ভোর ৪:৫৮ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৬:২৩ |
| যোহর | দুপুর ১:০৫ |
| আছর | বিকাল ৪:২৬ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৭:৪৬ |
| এশা | রাত ৯:১১ |